শেখ মুজিব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা নয়—অলি আহমদের বিস্ফোরক দাবি!
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ বীরবিক্রম সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কখনোই বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি; বরং তার লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া!
কী বললেন অলি আহমদ?
একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে। শেখ মুজিবুর রহমান আশাবাদী ছিলেন যে, তাকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী করা হবে, এবং সেটিই ছিল তার মূল আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু সেই আশা ধূলিসাৎ হয়ে যায় যখন পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতারা ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রশ্নে গড়িমসি করতে থাকেন।
মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে শেখ মুজিবের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন!
অলি আহমদের মতে, যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও শেখ মুজিব বিদ্রোহের অনুমতি দেননি। তিনি পাকিস্তানের সঙ্গে সমঝোতা করতে চেয়েছিলেন এবং স্বাধীনতার ঘোষণা না দিয়েই পাকিস্তানে চলে যান।
এছাড়াও, তিনি দাবি করেন, তৎকালীন সেনা কর্মকর্তারা বিদ্রোহের প্রস্তুতি নিলেও শেখ মুজিব তাদের সমর্থন করেননি, বরং পাকিস্তানের শাসকদের সঙ্গেই আলোচনা চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন।
বিতর্কিত মন্তব্য, ইতিহাস কী বলে?
অলি আহমদের এই মন্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল আলোচনা চলছে। ইতিহাসবিদদের মতে, শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি, যার নেতৃত্বেই বাঙালির মুক্তির সংগ্রাম চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে।
তবে, কর্নেল অলি আহমদের এই বক্তব্য নতুন করে ঐতিহাসিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে। সত্যিই কি বঙ্গবন্ধুর লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া? নাকি তিনি কৌশলগত কারণে এমন অবস্থান নিয়েছিলেন?
এই বক্তব্যের সত্যতা কতটা? আপনার মতামত কী? মন্তব্যে জানাতে ভুলবেন না!
